ঘনবস্তু
ঘনবস্তু কাকে বলে:
যে সকল বস্তু বা পদার্থ কিছুটা স্থান দখল করে থাকে এবং যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা আছে তাকে ঘনবস্তু বলে।যেমন বল, ইট, বই, খাতা,কয়লার টুকরো, পর্বত, ভাঙা ইট, ইত্যাদি
ঘনবস্তু কত প্রকার ও কি কি:
ইহা আকৃতি অনুসারে দুই প্রকার| যথাঃ১) সুষম ঘনবস্তু ও
২) বিষম ঘনবস্তু
সুষম ঘনবস্তু:
যে সমস্ত ঘনবস্তুর বহিরাকৃতি সামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের সুষম ঘনবস্তু বলে|যেমন বল, ইট, বই, খাতা ইত্যাদি এরুপ|
বিষম ঘনবস্তু:
যে সমস্ত ঘনবস্তুর বহিরাকৃতি সামঞ্জস্যহীন তাদের বিষম ঘনবস্তু বলে|যেমন কয়লার টুকরো, পর্বত, ভাঙা ইট ইত্যাদি|
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা বা বেধ হল এক একটি মাত্রা।
ঘনবস্তুর মাত্রা কয়টি ও কি কি:
ঘনবস্তুর মাত্রা ৩ টি,একটি ঘনবস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা - তিনটিই আছে, একারণে তা ত্রিমাত্রিক। বস্তুত, আমরা যে বস্তুজগতে বাস করি স্থানিক বিবেচনায় তার পুরোটাই ত্রিমাত্রিক।বিভিন্ন প্রকার সুষম ঘনবস্তু:
১. আয়তঘন
আয়তঘন এর সংজ্ঞা : যে ঘনবস্তুর প্রতিটি তল আয়তক্ষেত্রাকার এবং বিপরীত তল গুলির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান এবং সন্নিহিত তলগুলি পরস্পর লম্ব, তাকে সমকোণী চৌপল বা আয়তঘন বলা হয়।
* ৬টি পৃষ্ঠতল
* ১২টি ধার বা প্রান্তরেখা
* ৮টি শীর্ষবিন্দু
* সন্নিহিত তল গুলি পরস্পর ৯০° বা সমকোনে আনত থাকে।
ঘনক এর সংজ্ঞা : আয়তাকার ঘনবস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সমান হলে, তাকে ঘনক বলে।
* ৬টি তল
* ১২টি ধার বা প্রান্তরেখা
* ৮টি শীর্ষবিন্দু
* সন্নিহিত তল গুলি পরস্পর ৯০° বা সমকোনে আনত থাকে।
৩. চোঙ বা বেলন বা সিলিন্ডারঃ যে সকল ঘন বস্তুর দুটি প্রান্ততল বৃত্তাকার এবং যারা পরস্পর সমান্তরাল ভাবে অবস্থিত, তাদের চোঙ বা বেলন বা সিলিন্ডার বলে।
উদাহরণঃ পাইপ, টিউব লাইট, গোলাকার স্তম্ভ ইত্যাদি।
৪.
লম্ব বৃত্তাকার শঙ্কুঃ যে সকল ঘনবস্তুর ভূমিতল বৃত্তাকার ও সমতল এবং ভূমির উপরের দিকের পৃষ্ঠতলের পরিধী ক্রমশ কমতে কমতে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়েছে, তাদের শঙ্কু বলে।
উদাহরণঃ কলার মোচার অগ্রভাগ, বরের টোপর, ওলন, তেল ঢালা ফানেল ইত্যাদি।
পিরামিডঃ যে সকল ঘনবস্তুর ভূমি বহুভূজাকার ও পার্শ্বস্থ ত্রিভূজাকৃতি তলগুলি একটি বিন্দুতে মিলিত হয়েছে, তাদের পিরামিড বলে।
উদাহরণঃ মিশরের পিরামিড।
*** চতুস্তলকঃ ত্রিভূজাকার ভূমি বিশিষ্ঠ পিরামিড কে চতুস্তলক বলে।
৬.
গোলকঃ একটি মাত্র তল দ্বারা বেষ্টিত যে সকল ঘনবস্তুর বক্রতল টি অন্তঃস্থ (ভিতরের) একটি বিন্দু থেকে সর্বদা সমান দূরত্বে অবস্থান করে, তাকে গোলক বলে।
উদাহরণঃ বল, মার্বেল, গ্লোব ইত্যাদি।
(ক) নীরেট গোলকঃ যে গোলকের ভিতর ফাকা থাকে না।
উদাহরণঃ মার্বেল, রসগোল্লা ইত্যাদি।
তল- ২ টি ( ১ টি সমতল ও ১ টি বক্রতল)
ধার বা প্রান্তরেখা- ১ টি (বক্র)
শীর্ষবিন্দু- নেই।
(খ) ফাঁপা গোলকঃ যে গোলকের ভিতর ফাকা থাকে।
উদাহরণঃ ফুটবল, গ্লোব ইত্যাদি।
উদাহরণঃ ফুটবল, গ্লোব ইত্যাদি।
তল- ১ টি (বক্রতল)
ধার বা প্রান্তরেখা- নেই।
শীর্ষবিন্দু- নেই।
৭.
অর্ধ গোলকঃ একটি মাত্র তল দ্বারা বেষ্টিত যে সকল ঘনবস্তুর বক্রতল টি অন্তঃস্থ (ভিতরের) একটি বিন্দু থেকে সর্বদা সমান দূরত্বে অবস্থান করে, তাকে গোলক বলে। গোলকের সমান দুটি অংশের প্রতিটি ভাগ কে অর্ধ গোলক বলে।উদাহরণঃ বাটি, অর্ধেক কাটা লেবু।
(ক) নীরেট অর্ধ গোলকঃ যে অর্ধ গোলকের ভিতর ফাকা থাকে না।
উদাহরণঃ অর্ধেক কাটা লেবু।
তল- ২ টি ( ১ টি সমতল ও ১ টি বক্রতল)
ধার বা প্রান্তরেখা- ১ টি (বক্র)
শীর্ষবিন্দু- নেই।
(খ) ফাঁপা অর্ধ গোলকঃ যে অর্ধ গোলকের ভিতর ফাকা থাকে।
উদাহরণঃ বাটি।
তল- ২ টি ( ২ টি বক্রতল)
ধার বা প্রান্তরেখা- ১ টি (বক্র)
শীর্ষবিন্দু- নেই।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন